সম্প্রতি আমার বন্ধুবর লেখক কিশোর ঘোষালের 'বিন সুতোর মালা' পড়ছিলাম।বিভোর হয়ে পড়তে পড়তে হঠাতি কখন চলে গেছিলাম আমার কৈশোরে, আমার গ্রামে।সেই কলাবাড়ির পার।পার দিয়ে ডাঙা।পারে কলা গাছ, বাঁশ গাছের ঝোপ, তালগাছ, আম গাছ, খেজুর ও আতা গাছে সারি।উত্তর পারে মাঝ বরাবর একটা শেওড়া গাছ।ভুত থাকে বলে সন্ধ্যাবেলায় আমরা ঐ গাছটার ধারে কাছে ভিড়তাম না।উত্তর পূব পারে একটু তফাতে আমাদের চণ্ডীমণ্ডপ ও পাশে গ্রামের বহু পুরনো বহু স্মৃতি জড়িত ক্লাব। পুকুরের দক্ষিণ পূব কোনে ছিল ধনপতি হালদারের বাড়ি।পেশাছিল মাছধরা।ধনপতি কাকু অনেকদিন হল 'আগালছেন'(গত হয়েছেন)। কলাবাড়ি পুকুরটা ছিল শচিদাদুর।আমার বাবার কাকা।একসময় টলেটলে জল ছিল দাদুর এই পুকুরের।কত হাঁস খেলে বেড়াত।লোকে চান করত ।গম গম করত পুকুর ।মাঝে মধ্যে জল মেরে পুকুর পরিস্কার করা হত।শচিদাদু অনেক দিন হল চলে গেছেন।পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।খুব ভালো কুষ্টি লিখতেন।কালাবাড়ির পশ্চিমপারে ছিল আমাদের বাড়ি।পুকুরের দিকে পূব ধারে ছিল একটা খিড়কি।খিড়কিটা আজও আছে।খিড়কির ধারে পুকুর আর পাড়ার মধ্যে রাস্তা -লোকে ভাবে নিজের।এই পুকুরে দুপুরে ছিপ নিয়ে বসা ছিল আমাদের প্রা...
Durgapuja-2017 বহু বছর পর এবার পূজোতে বাড়ি মানে বেলুন যেতে পারিনি।ভীষণ খারাপ লাগছিল।যদিও ভাই এর অকাল প্রয়াণে পূজোই গ্রামের বাড়ি যাওয়া আগের সে আনন্দ সে আবেগ সে আকুলতা আজ আর আসে না।বর ফাঁকা লাগে ।। গ্রামে যেতে না পারাতে আমার বৌউ এর কয়েকশো কান্নাকাটি হয়ে গেল।প্যাণ্ডেল ঘুরে পূজো দেখার অভ্যেস আমার নেই।তারওপর মৌসুমির শিরদাঁড়ায় চোট।সব মিলিয়ে পূজো প্রায় ঘরে বসে কাটলো। "সপ্তমি অষ্টমী তিথি তুমি গত হয়ো না।কানছে রানি ধুলায় পড়ে প্রাণে বাঁচে না।বিজয়া দশমি তিথি তুমি গত হয়ো না।গৌরি গেল কৈলাসে সোম বৎসর আসবে না........ ।" ভাসানের পরে এই গানের টান ছোটো ভাই মারা যাওয়ার পর আগের মতো আর অনুভব না করলেও এই গানের চিরন্তন এক আকর্ষণ আছে যা আমাকে আজও টানে।ছোটো থেকে বাবা কাকার গলায় এই "চিরন্তনী" শুনে এসেছি।গৌরির বিদায়ের গান।চারদিনের আনন্দ মুখর দিনগুলি কাটিয়ে আমাদেরও ফেরারা গান।বৎসর কাল পরে গৌরি আবার আসবে এই আশা নিয়ে যে যার কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার গান। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর এটা ছিল আমাদের ঘরে ফেরার গান।সেই কোন কাল থেকে এক ভাবে চলে আসছে।ভাসান হয়ে গেলে কালি তলায় চলো।সেখানে কাঁচা হলু...