Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2018

ঘরে ফেরার গান

Durgapuja-2017 বহু বছর পর এবার পূজোতে বাড়ি মানে বেলুন যেতে পারিনি।ভীষণ খারাপ লাগছিল।যদিও ভাই এর অকাল প্রয়াণে পূজোই গ্রামের বাড়ি যাওয়া আগের সে আনন্দ সে আবেগ সে আকুলতা আজ আর আসে না।বর ফাঁকা লাগে ।। গ্রামে যেতে না পারাতে  আমার বৌউ এর কয়েকশো কান্নাকাটি হয়ে গেল।প্যাণ্ডেল ঘুরে পূজো দেখার অভ্যেস আমার নেই।তারওপর মৌসুমির শিরদাঁড়ায় চোট।সব মিলিয়ে পূজো প্রায় ঘরে বসে কাটলো। "সপ্তমি অষ্টমী তিথি তুমি গত হয়ো না।কানছে রানি ধুলায় পড়ে প্রাণে বাঁচে না।বিজয়া দশমি তিথি তুমি গত হয়ো না।গৌরি গেল কৈলাসে সোম বৎসর আসবে না........ ।" ভাসানের পরে এই গানের টান ছোটো ভাই মারা যাওয়ার পর আগের মতো আর অনুভব না করলেও এই গানের চিরন্তন এক আকর্ষণ আছে যা আমাকে আজও টানে।ছোটো থেকে বাবা  কাকার গলায় এই "চিরন্তনী" শুনে এসেছি।গৌরির বিদায়ের গান।চারদিনের আনন্দ মুখর দিনগুলি কাটিয়ে আমাদেরও ফেরারা গান।বৎসর কাল পরে গৌরি আবার আসবে এই আশা নিয়ে যে যার কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার গান। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর এটা ছিল আমাদের ঘরে ফেরার গান।সেই কোন কাল থেকে এক ভাবে চলে আসছে।ভাসান হয়ে গেলে কালি তলায় চলো।সেখানে কাঁচা হলু...

বেলুন 4 - দাদু বড়বাবু

গ্রামে যেতে হলে কুরুম গ্রামে নামতে হতো।কুমার ডুবি ষ্টেশনে কোলফিল্ডে উঠে অণ্ডালে নামতাম।তার পর অণ্ডাল-সাঁইথিয়া ট্রেনে চেপে বাউল গান শুনতে শুনতে পৌঁছে যেতাম সাঁইথে।সেখান থেকে বারুণি প্যাসেঞ্জারে চেপে রামপুরহাট ।কখন কখন দেরি হলে দানাপুর এক্সপ্রেস।আমরা মনে প্রাণে চাইতাম দেরি হোক।দানাপুর এক্সপ্রেসের বিশাল কানাডা ইঞ্জনের প্রতি ছিল এক দুর্বার রোমাঞ্চকর আকর্ষণ যা আজও যায় নি।রামপুরহাটে নামতাম।পথে কখন মদন মামা বা বাবার বন্ধুবান্ধব সহযাত্রী হয়ে যেত।সবাই গ্রামে ফিরছে।চারদিক আনন্দে মশগুল, গল্পগুজব চল রামপুরহাট -সর্ধা-বুজুং বাসে চেপে আমরা সবাই কুরুমগ্রামে নামতাম -সরকার বা স্কুল পাড়া বা নিমতলা বা শিবতলা কোন এক জায়গায় নেমে পড়লেই হতো।নিতা কাকা,জিতু কাকা, মানিক মামারা অপেক্ষা করতো আমাদের জন্য।নামা মাত্র জিনিস পত্র সানন্দে কাঁধে মাথায় তুলে নিত।কেউ বলতো,"ভাইপোরা এল্যা"। কেউ বা বলতো, " ভাগনারা আসা হলো তবে"। আমরা তো ওদের দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম।ওরাও ভীষণ খুশি আমাদের দেখে।অদ্ভুত এক একাত্মতা অনুভব করতাম যা আজও মন থেকে মুছে যায় নি।নিতা কাকা, মানিক মামারা আজ আর নেই।কিন্তু ওদে...

বেলুন 3 - 'অপা ডাকাত'

গ্রামে আমাকে সবাই অপু নামেই ডাকত।মামার বাড়ির দেওয়া নাম।বড় মামা ডাকতো অপা বলে ।কখন কখন ডাকাত বলতেন।ভীষণ বদমাইশ ছিলাম তাই অত সুন্দর নাম।তা সেবার ধান কাটার যসময় মামাতো বোন পাপিয়ার,টিয়া সঙ্গে মামার একটি অতি প্রিয় কুকুর। গ্রামে ঢোকার তিন রাস্তাতে তিনটি কালী মন্দির।উত্তরে বাবুদের  বটতলা কালী।দক্ষিণে গ্রামের রক্ষা কালী।আর পূবে বুড়হ্যা কালীতলা।এখানে কখন মূর্তি হতে দেখিনি।বেদীর পূজো।বছরের বিভিন্ন সময়ে হয়। শতবর্ষ প্রাচীন বিশাল এক অশ্বত্থ গাছের নীচে মায়ের বেদি।অসংখ্য শাখা প্রশাখার কোটরে কত রকম পাখীল  বাস।তাদের কিচির মিচির কত রকম আওয়াজে চারদিক কোলাহল মত্ত  হয়ে থাকতো।দল বেঁধে টিয়া পাখির দল উড়ে যেতো।হারিয়ে যেতো দূরে নীলাকাশে। আবার দল বেঁধে ফিরে আসতো।হারিয়ে যেত বিশাল গাছের অসংখ্য কোটরে।  গলায় লাল ডোর দেখলেই আমরা আনন্দে লাফাতাম,হাততালি দিতাম আর বলতাম,  "চন্দনা টিয়া, চন্দনা টিয়া"।খুব ইচ্ছে হতো কেউ যদি একটা ধরে এনে দেয়।একদম ডগার দিকে বাস ছিল কিছু ফুট ফুটে সাদা বকের। চন্দনা টিয়া সোনাকানির ল্যাট পারায় সন্তু দাদুর বাড়িতে একটা ছিল।দিদার সঙ্গে নাড়ু খেতে, বিজয়ার সময়, ঐ...

বেলুন 2 - ক্যানেল পার

বহুস্মৃতি বিজড়িত ক্যানেল পারের স্যাঁকো। কালের ছোবলে এখন জরাগ্রস্ত ।একসময় সুন্দর সবল ছিল এই সাঁকো।এখন বার্ধক্যে এসে কোন রকমে গরুর গাড়ির ভার বহন করে।মনে হয় ভেঙে না পড়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না।ক্যানেল অফিসের অবস্থা আরো শোচনীয় ।ছোটো বেলায় দেখেছি কি সুন্দর ছিম-ছাম সাজানো গোছানো ক্যনেল অফিস।সংলগ্ন বাগান ভর্তি নানা ফুল।দেবদারু ও আরও নানা রকম গাছ গাছালি।আলো-আধাঁরি পরিবেশ।সন্ধ্যায় নানা ধরণের পাখীর কিচির মিচির। সরস্বতী পূজোর ভোরে ক্যানেল অফিসের দারোয়ানকে ফাঁকি দিয়ে ফুল চুরি ও দেবদারু গাছের শাখা-পল্লব চুরি করা আমাদের কাছে এক বিশাল রোমাঞ্চকর বিষয় ছিল।অনেকটা রাজ্য জয় করার মতো।আমরা ভাবতাম দারোয়ান দেখেনি।আসলে সে দেখেও না দেখার ভান করত। অফিসের দক্ষিণ পশ্চিমে ছিল ওভারসিয়ার বাংলো।তার এক ধারে ষ্টাফেদের থাকার জায়গা ।লক গেট মেনটেনেন্স ও ক্যানেলের দেখভাল করতেন এনারা।চারিদিক কলকাকলী আর প্রাণ প্রচুর্যে ভরপুর ছিল। ক্যানেল অফিসার সামনের মেঠো রাস্তা।রাস্তাটা পূব দিকে গিয়ে যেখানে দু ভাগ হয়েছে ঠিক তার উল্টোদিকে ফুলদানির মতো দেখতে বিশাল পেকুর( অশ্বত্থ ')গাছদানি'টার ঠিক নীচে মা রক্...

বেলুন 1 - 'দুব্যা' ঘাসের রুটি

আমরা তখন অনেক ছোটো।ভাসা ভাসা বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোটো বেলার ছবি গুলো মানসপটে মাঝে মধ্যে ভেসে ওঠে। খবরটা কয়েক দিন ধরেই আকাশে বাতাসে রটে গেছে।গ্রামে নাকি স্বামীজিরৃ আসছেন।সেই প্রথম ঐ রকম নাম শুনছি ।একটা ভ্যান গাড়ির ছবি মনে ভাসে।মনে ভাসছে আমাদের জামগাছ তলার নীচে এসে দাঁড়িয়ে ছিল ভ্যানটা। আমারা ভীষণ উত্তেজিত ও অধর্য্য  স্বামীজিদের দেখার জন্য।আমাদের গ্রামে এক সন্ন্যাসি বৈরাগী ছিলেন।তার থেকে একদম আলাদা।বৈরাগীর মাথা ভর্তি চুল ছিল।গেরুয়া পড়তে দেখিনি।এনাদের মাথা ন্যাড়া।পরিধানে গেরুয়া। স্কুল ঘরের উল্টো দিকে একটা ছোট্ট সামিয়ানা টাঙানো হয়েছিল। ওনারা 'দুব্যা' ঘাসের রুটি বানানো শেখাবেন ও খাওয়াবেন।রাণা প্রতাপের নাম তখনও শুনিনি।ওনারা রুটি বানানোর সময় হয়তো বলেছিলেন মনে নেই।টুকরো ছবি যেটা ভাসে কাঁটাপুখুর বাগানে থেক 'দুব্যা' ঘাসের কচি ডগা তোলা।তুলে এনে নিশ্চয় পরিস্কার করে সেদ্ধ করা হয়েছিল।চোখের সামনে ভাসে শুধু  একতাল ঘাস মাখা সবুজ আটা।মনে পড়ে ওনারা চলে যাওয়ার পর ছোটো মামা, ছোটো মাসি ও আমি সকাল সন্ধ্যা ধূপ জ্বালিয়ে  সারদা মা, রাম কৃষ্ণ ও বিবেকানেন্দর ছবির সামনে প্রার্থন...