Skip to main content

বেলুন 3 - 'অপা ডাকাত'

গ্রামে আমাকে সবাই অপু নামেই ডাকত।মামার বাড়ির দেওয়া নাম।বড় মামা ডাকতো অপা বলে ।কখন কখন ডাকাত বলতেন।ভীষণ বদমাইশ ছিলাম তাই অত সুন্দর নাম।তা সেবার ধান কাটার যসময় মামাতো বোন পাপিয়ার,টিয়া সঙ্গে মামার একটি অতি প্রিয় কুকুর।
গ্রামে ঢোকার তিন রাস্তাতে তিনটি কালী মন্দির।উত্তরে বাবুদের  বটতলা কালী।দক্ষিণে গ্রামের রক্ষা কালী।আর পূবে বুড়হ্যা কালীতলা।এখানে কখন মূর্তি হতে দেখিনি।বেদীর পূজো।বছরের বিভিন্ন সময়ে হয়। শতবর্ষ প্রাচীন বিশাল এক অশ্বত্থ গাছের নীচে মায়ের বেদি।অসংখ্য শাখা প্রশাখার কোটরে কত রকম পাখীল  বাস।তাদের কিচির মিচির কত রকম আওয়াজে চারদিক কোলাহল মত্ত  হয়ে থাকতো।দল বেঁধে টিয়া পাখির দল উড়ে যেতো।হারিয়ে যেতো দূরে নীলাকাশে।
আবার দল বেঁধে ফিরে আসতো।হারিয়ে যেত বিশাল গাছের অসংখ্য কোটরে।
 গলায় লাল ডোর দেখলেই আমরা আনন্দে লাফাতাম,হাততালি দিতাম আর বলতাম,  "চন্দনা টিয়া, চন্দনা টিয়া"।খুব ইচ্ছে হতো কেউ যদি একটা ধরে এনে দেয়।একদম ডগার দিকে বাস ছিল কিছু ফুট ফুটে সাদা বকের।
চন্দনা টিয়া সোনাকানির ল্যাট পারায় সন্তু দাদুর বাড়িতে একটা ছিল।দিদার সঙ্গে নাড়ু খেতে, বিজয়ার সময়, ঐ বাড়িতে গেলে ঐ পাখিটা কি একটা যেন বেশ বলতো আজ আর মনে নেই।
তা সেই বিশাল বটগাছের পেছনে কালিপুখুর।তারপরে একফালি ডাঙা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর।পূব দিকে বোল পুখুর।ডাঙার শেষে একেবারে উত্তরে বিশাল এক জামগাছ।জামের সময় ওটা গ্রামের মামা-দাদা -কাকা সবার আকর্ষণ স্থল ছিল ।
তা একদিকে কালিপুখুর একদিকে বোলপুর মাঝে এক ফালি ডাঙা।ডাঙার একদিকে গরুরগাডীর চাকার 'লি'(দাগ)।
পড়ন্ত বিকালের একটু আগে।লি ধরে গরুর গাড়ি চলছে।নমিতা কাকা নানা রকম আওয়াজ করে গরু ডাকাচ্ছে।গাড়িতে বোঝাই ধান সমেত খড়।সঙ্গে পেছনে পেছনে হাঁটছি গোরাং, বিকাশ, টিয়া, পাপিয়া আর আমি।মামাতো বোনেরা গরুর গাড়ি দেখে ভীষণ রমাঞ্চিত।কিছু একটা নিয়ে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি চলছে।
গোড়াং মাঝে মধ্যে রেগে যাচ্ছে ওদের ইংরেজিতে কথাবার্তা বুঝতে পারছে না বলে।রেগে গিয়ে বলল, 'যা বুলছিস বাংলায় বল কেনে ।তোদের সব প্রশ্নের উত্তর দিব '।
মাঝে মধ্যে কথা বলতো
তার পছনে কলী পুখর।

Comments

  1. বেলুন ও ফুটে উঠছিল তোমার লেখায় বড়দা.....মামন কে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই উদ্যোগ এর জন্য।

    ReplyDelete
  2. Khub bhalo legeche.. keep continue

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

বেলুন 2 - ক্যানেল পার

বহুস্মৃতি বিজড়িত ক্যানেল পারের স্যাঁকো। কালের ছোবলে এখন জরাগ্রস্ত ।একসময় সুন্দর সবল ছিল এই সাঁকো।এখন বার্ধক্যে এসে কোন রকমে গরুর গাড়ির ভার বহন করে।মনে হয় ভেঙে না পড়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না।ক্যানেল অফিসের অবস্থা আরো শোচনীয় ।ছোটো বেলায় দেখেছি কি সুন্দর ছিম-ছাম সাজানো গোছানো ক্যনেল অফিস।সংলগ্ন বাগান ভর্তি নানা ফুল।দেবদারু ও আরও নানা রকম গাছ গাছালি।আলো-আধাঁরি পরিবেশ।সন্ধ্যায় নানা ধরণের পাখীর কিচির মিচির। সরস্বতী পূজোর ভোরে ক্যানেল অফিসের দারোয়ানকে ফাঁকি দিয়ে ফুল চুরি ও দেবদারু গাছের শাখা-পল্লব চুরি করা আমাদের কাছে এক বিশাল রোমাঞ্চকর বিষয় ছিল।অনেকটা রাজ্য জয় করার মতো।আমরা ভাবতাম দারোয়ান দেখেনি।আসলে সে দেখেও না দেখার ভান করত। অফিসের দক্ষিণ পশ্চিমে ছিল ওভারসিয়ার বাংলো।তার এক ধারে ষ্টাফেদের থাকার জায়গা ।লক গেট মেনটেনেন্স ও ক্যানেলের দেখভাল করতেন এনারা।চারিদিক কলকাকলী আর প্রাণ প্রচুর্যে ভরপুর ছিল। ক্যানেল অফিসার সামনের মেঠো রাস্তা।রাস্তাটা পূব দিকে গিয়ে যেখানে দু ভাগ হয়েছে ঠিক তার উল্টোদিকে ফুলদানির মতো দেখতে বিশাল পেকুর( অশ্বত্থ ')গাছদানি'টার ঠিক নীচে মা রক্...

বেলুন 4 - দাদু বড়বাবু

গ্রামে যেতে হলে কুরুম গ্রামে নামতে হতো।কুমার ডুবি ষ্টেশনে কোলফিল্ডে উঠে অণ্ডালে নামতাম।তার পর অণ্ডাল-সাঁইথিয়া ট্রেনে চেপে বাউল গান শুনতে শুনতে পৌঁছে যেতাম সাঁইথে।সেখান থেকে বারুণি প্যাসেঞ্জারে চেপে রামপুরহাট ।কখন কখন দেরি হলে দানাপুর এক্সপ্রেস।আমরা মনে প্রাণে চাইতাম দেরি হোক।দানাপুর এক্সপ্রেসের বিশাল কানাডা ইঞ্জনের প্রতি ছিল এক দুর্বার রোমাঞ্চকর আকর্ষণ যা আজও যায় নি।রামপুরহাটে নামতাম।পথে কখন মদন মামা বা বাবার বন্ধুবান্ধব সহযাত্রী হয়ে যেত।সবাই গ্রামে ফিরছে।চারদিক আনন্দে মশগুল, গল্পগুজব চল রামপুরহাট -সর্ধা-বুজুং বাসে চেপে আমরা সবাই কুরুমগ্রামে নামতাম -সরকার বা স্কুল পাড়া বা নিমতলা বা শিবতলা কোন এক জায়গায় নেমে পড়লেই হতো।নিতা কাকা,জিতু কাকা, মানিক মামারা অপেক্ষা করতো আমাদের জন্য।নামা মাত্র জিনিস পত্র সানন্দে কাঁধে মাথায় তুলে নিত।কেউ বলতো,"ভাইপোরা এল্যা"। কেউ বা বলতো, " ভাগনারা আসা হলো তবে"। আমরা তো ওদের দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম।ওরাও ভীষণ খুশি আমাদের দেখে।অদ্ভুত এক একাত্মতা অনুভব করতাম যা আজও মন থেকে মুছে যায় নি।নিতা কাকা, মানিক মামারা আজ আর নেই।কিন্তু ওদে...

বেলুন 5 - কলাবাড়ি পুকুরটা

সম্প্রতি আমার বন্ধুবর লেখক কিশোর ঘোষালের 'বিন সুতোর মালা' পড়ছিলাম।বিভোর হয়ে পড়তে পড়তে হঠাতি কখন চলে গেছিলাম আমার কৈশোরে, আমার গ্রামে।সেই কলাবাড়ির পার।পার দিয়ে ডাঙা।পারে কলা গাছ, বাঁশ গাছের ঝোপ,  তালগাছ, আম গাছ, খেজুর ও আতা গাছে সারি।উত্তর পারে মাঝ বরাবর একটা শেওড়া গাছ।ভুত থাকে বলে সন্ধ্যাবেলায় আমরা ঐ গাছটার ধারে কাছে ভিড়তাম না।উত্তর পূব পারে একটু তফাতে আমাদের চণ্ডীমণ্ডপ ও পাশে গ্রামের বহু পুরনো বহু স্মৃতি জড়িত ক্লাব। পুকুরের দক্ষিণ পূব কোনে ছিল ধনপতি হালদারের বাড়ি।পেশাছিল মাছধরা।ধনপতি কাকু অনেকদিন হল 'আগালছেন'(গত হয়েছেন)। কলাবাড়ি পুকুরটা ছিল শচিদাদুর।আমার বাবার কাকা।একসময় টলেটলে জল ছিল দাদুর এই পুকুরের।কত হাঁস খেলে বেড়াত।লোকে চান করত ।গম গম করত পুকুর ।মাঝে মধ্যে জল মেরে পুকুর পরিস্কার করা হত।শচিদাদু অনেক দিন হল চলে গেছেন।পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।খুব ভালো কুষ্টি লিখতেন।কালাবাড়ির পশ্চিমপারে ছিল আমাদের বাড়ি।পুকুরের দিকে পূব ধারে ছিল একটা খিড়কি।খিড়কিটা আজও  আছে।খিড়কির ধারে পুকুর আর পাড়ার মধ্যে রাস্তা -লোকে ভাবে নিজের।এই পুকুরে দুপুরে ছিপ নিয়ে বসা ছিল আমাদের প্রা...