Skip to main content

বেলুন 1 - 'দুব্যা' ঘাসের রুটি

আমরা তখন অনেক ছোটো।ভাসা ভাসা বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোটো বেলার ছবি গুলো মানসপটে মাঝে মধ্যে ভেসে ওঠে।
খবরটা কয়েক দিন ধরেই আকাশে বাতাসে রটে গেছে।গ্রামে নাকি স্বামীজিরৃ আসছেন।সেই প্রথম ঐ রকম নাম শুনছি ।একটা ভ্যান গাড়ির ছবি মনে ভাসে।মনে ভাসছে আমাদের জামগাছ তলার নীচে এসে দাঁড়িয়ে ছিল ভ্যানটা।
আমারা ভীষণ উত্তেজিত ও অধর্য্য  স্বামীজিদের দেখার জন্য।আমাদের গ্রামে এক সন্ন্যাসি বৈরাগী ছিলেন।তার থেকে একদম আলাদা।বৈরাগীর মাথা ভর্তি চুল ছিল।গেরুয়া পড়তে দেখিনি।এনাদের মাথা ন্যাড়া।পরিধানে গেরুয়া।
স্কুল ঘরের উল্টো দিকে একটা ছোট্ট সামিয়ানা টাঙানো হয়েছিল। ওনারা 'দুব্যা' ঘাসের রুটি বানানো শেখাবেন ও খাওয়াবেন।রাণা প্রতাপের নাম তখনও শুনিনি।ওনারা রুটি বানানোর সময় হয়তো বলেছিলেন মনে নেই।টুকরো ছবি যেটা ভাসে কাঁটাপুখুর বাগানে থেক 'দুব্যা' ঘাসের কচি ডগা তোলা।তুলে এনে নিশ্চয় পরিস্কার করে সেদ্ধ করা হয়েছিল।চোখের সামনে ভাসে শুধু  একতাল ঘাস মাখা সবুজ আটা।মনে পড়ে ওনারা চলে যাওয়ার পর ছোটো মামা, ছোটো মাসি ও আমি সকাল সন্ধ্যা ধূপ জ্বালিয়ে  সারদা মা, রাম কৃষ্ণ ও বিবেকানেন্দর ছবির সামনে প্রার্থনা সঙ্গীত 'ভব সাগর তারণ কারণ হে...... ' গাইতাম।গ্রামের অনেক বাড়িতেই সকাল সন্ধ্যা রাম কৃষ্ণ বন্দনা শুরু হয় নতুন উদ্যোমে।'ঠাকুরের সঙ্গে
শৈশবের সেই প্রথম পরিচয় আজও অটুট।
মনের বাগানে বিস্মৃত প্রায় স্মৃতির ফুল ফুল গুলো সব এখনে ওখানে গ্রামের অলিতে গলিতে ছাড়িয়ে আছে।স্মৃতি ডোরে গাঁথার চেষ্টা করছি।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

বেলুন 2 - ক্যানেল পার

বহুস্মৃতি বিজড়িত ক্যানেল পারের স্যাঁকো। কালের ছোবলে এখন জরাগ্রস্ত ।একসময় সুন্দর সবল ছিল এই সাঁকো।এখন বার্ধক্যে এসে কোন রকমে গরুর গাড়ির ভার বহন করে।মনে হয় ভেঙে না পড়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না।ক্যানেল অফিসের অবস্থা আরো শোচনীয় ।ছোটো বেলায় দেখেছি কি সুন্দর ছিম-ছাম সাজানো গোছানো ক্যনেল অফিস।সংলগ্ন বাগান ভর্তি নানা ফুল।দেবদারু ও আরও নানা রকম গাছ গাছালি।আলো-আধাঁরি পরিবেশ।সন্ধ্যায় নানা ধরণের পাখীর কিচির মিচির। সরস্বতী পূজোর ভোরে ক্যানেল অফিসের দারোয়ানকে ফাঁকি দিয়ে ফুল চুরি ও দেবদারু গাছের শাখা-পল্লব চুরি করা আমাদের কাছে এক বিশাল রোমাঞ্চকর বিষয় ছিল।অনেকটা রাজ্য জয় করার মতো।আমরা ভাবতাম দারোয়ান দেখেনি।আসলে সে দেখেও না দেখার ভান করত। অফিসের দক্ষিণ পশ্চিমে ছিল ওভারসিয়ার বাংলো।তার এক ধারে ষ্টাফেদের থাকার জায়গা ।লক গেট মেনটেনেন্স ও ক্যানেলের দেখভাল করতেন এনারা।চারিদিক কলকাকলী আর প্রাণ প্রচুর্যে ভরপুর ছিল। ক্যানেল অফিসার সামনের মেঠো রাস্তা।রাস্তাটা পূব দিকে গিয়ে যেখানে দু ভাগ হয়েছে ঠিক তার উল্টোদিকে ফুলদানির মতো দেখতে বিশাল পেকুর( অশ্বত্থ ')গাছদানি'টার ঠিক নীচে মা রক্...

বেলুন 4 - দাদু বড়বাবু

গ্রামে যেতে হলে কুরুম গ্রামে নামতে হতো।কুমার ডুবি ষ্টেশনে কোলফিল্ডে উঠে অণ্ডালে নামতাম।তার পর অণ্ডাল-সাঁইথিয়া ট্রেনে চেপে বাউল গান শুনতে শুনতে পৌঁছে যেতাম সাঁইথে।সেখান থেকে বারুণি প্যাসেঞ্জারে চেপে রামপুরহাট ।কখন কখন দেরি হলে দানাপুর এক্সপ্রেস।আমরা মনে প্রাণে চাইতাম দেরি হোক।দানাপুর এক্সপ্রেসের বিশাল কানাডা ইঞ্জনের প্রতি ছিল এক দুর্বার রোমাঞ্চকর আকর্ষণ যা আজও যায় নি।রামপুরহাটে নামতাম।পথে কখন মদন মামা বা বাবার বন্ধুবান্ধব সহযাত্রী হয়ে যেত।সবাই গ্রামে ফিরছে।চারদিক আনন্দে মশগুল, গল্পগুজব চল রামপুরহাট -সর্ধা-বুজুং বাসে চেপে আমরা সবাই কুরুমগ্রামে নামতাম -সরকার বা স্কুল পাড়া বা নিমতলা বা শিবতলা কোন এক জায়গায় নেমে পড়লেই হতো।নিতা কাকা,জিতু কাকা, মানিক মামারা অপেক্ষা করতো আমাদের জন্য।নামা মাত্র জিনিস পত্র সানন্দে কাঁধে মাথায় তুলে নিত।কেউ বলতো,"ভাইপোরা এল্যা"। কেউ বা বলতো, " ভাগনারা আসা হলো তবে"। আমরা তো ওদের দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম।ওরাও ভীষণ খুশি আমাদের দেখে।অদ্ভুত এক একাত্মতা অনুভব করতাম যা আজও মন থেকে মুছে যায় নি।নিতা কাকা, মানিক মামারা আজ আর নেই।কিন্তু ওদে...

বেলুন 5 - কলাবাড়ি পুকুরটা

সম্প্রতি আমার বন্ধুবর লেখক কিশোর ঘোষালের 'বিন সুতোর মালা' পড়ছিলাম।বিভোর হয়ে পড়তে পড়তে হঠাতি কখন চলে গেছিলাম আমার কৈশোরে, আমার গ্রামে।সেই কলাবাড়ির পার।পার দিয়ে ডাঙা।পারে কলা গাছ, বাঁশ গাছের ঝোপ,  তালগাছ, আম গাছ, খেজুর ও আতা গাছে সারি।উত্তর পারে মাঝ বরাবর একটা শেওড়া গাছ।ভুত থাকে বলে সন্ধ্যাবেলায় আমরা ঐ গাছটার ধারে কাছে ভিড়তাম না।উত্তর পূব পারে একটু তফাতে আমাদের চণ্ডীমণ্ডপ ও পাশে গ্রামের বহু পুরনো বহু স্মৃতি জড়িত ক্লাব। পুকুরের দক্ষিণ পূব কোনে ছিল ধনপতি হালদারের বাড়ি।পেশাছিল মাছধরা।ধনপতি কাকু অনেকদিন হল 'আগালছেন'(গত হয়েছেন)। কলাবাড়ি পুকুরটা ছিল শচিদাদুর।আমার বাবার কাকা।একসময় টলেটলে জল ছিল দাদুর এই পুকুরের।কত হাঁস খেলে বেড়াত।লোকে চান করত ।গম গম করত পুকুর ।মাঝে মধ্যে জল মেরে পুকুর পরিস্কার করা হত।শচিদাদু অনেক দিন হল চলে গেছেন।পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।খুব ভালো কুষ্টি লিখতেন।কালাবাড়ির পশ্চিমপারে ছিল আমাদের বাড়ি।পুকুরের দিকে পূব ধারে ছিল একটা খিড়কি।খিড়কিটা আজও  আছে।খিড়কির ধারে পুকুর আর পাড়ার মধ্যে রাস্তা -লোকে ভাবে নিজের।এই পুকুরে দুপুরে ছিপ নিয়ে বসা ছিল আমাদের প্রা...